শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০

২৬ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

ইমাম ইমু, চবি

মার্চ ১৫,২০২০, ০৭:৩১

মার্চ ১৫,২০২০, ০৭:৩১

করোনা আতঙ্কে ক্যাম্পাস বিমুখ চবি শিক্ষার্থীরা

বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আতঙ্কে ক্যাম্পাস বিমুখ হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম, শাটলেও কমেছে ভিড়, অনেকে ইতোমধ্যে ধরেছেন বাড়ির পথ।

এ নিয়ে রোববার বিকাল ৬টা পর্যন্ত চারটি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইলোকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইতিহাস বিভাগ।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ব্যক্তিগত একাউন্ট এবং বিভিন্ন গ্রুপে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দাবি জানিয়ে পোস্ট করেছেন।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মারজান আক্তার ফেইসবুকে পোস্ট করে বলেন, 'করোনাভাইরাস এর (কোভিড-১৯) প্রকোপ না কমা পর্যন্ত আজ হতে সকল ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করছি।'

মারজান বলেন, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে আমরা লিখিত আবেদন নিয়ে চেয়ারম্যার স্যারের কাছে গিয়েছি। স্যার বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নিলে তবেই ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখতে পারবেন।'

ইলোকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুমান হোসেন আরমান বলেন, আমরা শনিবার রাতে গ্রুপে পোস্ট করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছি। স্যারদের সাথে কথা বলেছি স্যাররা বলেছেন তোমাদের ইচ্ছা। বর্জন করলে করতে পারো।'

একই বর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. শিহাব বলেন, আজ থেকে আমরা পুরো বিভাগ সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছি।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আনিসুল ইসলাম নির্জয় ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন, 'কোবিড-১৯ এর আগাম সচেতনতা এবং ঝুঁকি এড়ানোর জন্য চবির ইতিহাস বিভাগের সকল বর্ষের ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।'

এর আগে গত ১২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কেএম নুর আহমদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ্য অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জনসমাগম নিষিদ্ধসহ তিনটি নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং চবি শিক্ষক সমিতি নোভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে করণীয় সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে ক্যাম্পাসব্যাপী। তবে শাটল অনেক লোকের সমাগম হলেও সেটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ উল্লেখ করে চবি প্রক্টর বলেন, শাটল বন্ধ করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করতে হবে। পরিস্থিতি সেইরকম হলে আলোচনায় বসে ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আজ সন্ধায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসএম মনিরুল হাসান বলেন, কোন বিভাগের সভাপতি আমাদের কাছে এমন অভিযোগ করেন নাই। তবু আমরা বসে যদি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করতে হয় তাহলে সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আমারসংবাদ/এমআর