শনিবার ০৪ এপ্রিল ২০২০

২১ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ২০,২০২০, ১২:৫১

মার্চ ২০,২০২০, ১২:৫১

করনোভাইরাস: নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। ক্রেতাদের দাবি, তিন কারণে দাম বেড়েছে।

তারা বলছেন, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, পাইকারি বাজারে জোগানের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্রয় করে মজুত করার প্রতিযোগিতার কারণে নিত্যপণ্যের বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত দুই-তিন দিনের তুলনায় চাল, পেঁয়াজ, সবজিসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) কেজি প্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। শুক্রবার (২০ মার্চ) বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। দাম বেড়ে রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, আদা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর টাউন হল বাজার ঘুরে বাজারের এমন চিত্রই দেখা যায়।

এদিকে চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের চালে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা করে বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।

আর নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৬ টাকায়। মাঝারি মানের বিআর-২৮ চাল ৪৩ টাকা, স্বর্ণা ৩৬ টাকা, পাইজম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায়। সুগন্ধি চাল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
 
টাউন হলের সবজির বাজারও চড়া। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, করোলা ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, সজনে ডাঁটা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে প্রতি পিস বড় সাইজের ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় দাম বেড়েছে সব ধরনের মাংসের। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৮০ টাকা, খাসির মাংস ৯০০ টাকা এবং বকরির মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তাছাড়া, ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১২৫-১৩০ টাকা, কক মুরগি ১৮০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ২৫০-২৬০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ টাকা ও হাঁস ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বড় সাইজের রুই মাছ ৩৫০ টাকা, ছোট সাইজের রুই মাছ ২৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ টাকা, সরপুঁটি ২০০ টাকা, ছোট মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা মাছ ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম বেড়ে ৩৫ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে, সয়াবিন তেল ও চিনির দাম আগের মতোই রয়েছে। ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে কিছু কিছু পণ্য এরই মধ্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।
 
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে আপৎকালীন সঞ্চয়ের  জন্য তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নিচ্ছেন।

জানতে চাইলে শ্যামলীর তাসমিনা তুলি বলেন, ‘বাজারের চাল-ডালের দাম বেড়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় এক মাসের জন্য প্রয়োজনীয় সব খাবার কিনে নিচ্ছি’।
 
পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘চাহিদা বেশি।  জোগান কম।  দামও বেশি কিছুটা বেড়েছে।  তবে সিন্ডিকেট হচ্ছে না।’

এদিকে, করোনায় আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য কেনা ও মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী।

আমারসংবাদ/এআই