শুক্রবার ২৯ মে ২০২০

১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

মে ১৯,২০২০, ০৫:২৪

মে ১৯,২০২০, ০৫:২৪

ভূরুঙ্গামারীতে

৬ মামলার আসামির চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে হাফ ডজন মামলার আসামির দাপটে অতিষ্ঠ উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের মানুষ। সম্প্রতি ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট সড়কের সম্প্রসারণ কাজে বালু সরবরাহকারীর কাছে চাঁদা দাবীকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারের লোকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে হাফ ডজন মামলার আসামী ও তার সহযোগী দুস্কৃতিকারীরা। আহতরা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

এ ব্যাপারে সোনাহাট ইউনিয়নের গনাইয়েরকুটি গ্রামের সরবরাহকারী আহত সুলতান মোল্লা বাদী হয়ে একই ইউনিয়নের বানুরকুটি গ্রামের অভিযুক্ত চাঁদাবাজ মিজানুর রহমান মিজু, রঞ্জু মিয়া ও রিপন মিয়া সহ ১৮ জনকে আসামি করে গত ১৭ মে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নম্বর-০৮।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সুলতান মোল্লা ও তার সহকর্মী জাহাঙ্গীর আলম হ্যাপী শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে গেলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজু সুলতানের নিকট মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবী করে। চাঁদা দিতে রাজী না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাগবিতন্ডার শুরু হয়। এক পযার্য়ে মিজু তার লোকজন নিয়ে হামলা করে। এতে সুলতান, মাঈদুল, হ্যাপী ও সাইফুর সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়।

আহত সুলতান জানায়, মিজুর তার হাতে থাকা দেশীয় ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে আমার মাথায় কোপ দিলে আমি মাটিতে পড়ে যাই। আমার সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, বছর দুই আগে সোনাহাট ক্যাম্পের মোড়ে গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মিজু ও তার নেশাগ্রস্থ ভাতিজা সুজন ও সুমনকে সাথে নিয়ে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীর ভোগডাঙ্গা এলাকার আঃ সাত্তারের ছেলে ট্রাক ড্রাইভার শাহ আলমকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তিনটি দাঁত ভেঙ্গে দেয়। এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা হয়েছে যার নম্বর ১৬/১৮।

স্থানীয়দের অভিযোগ মিজু ও তার বড় ভাই আমিনুর এবং তাদের পুরো পরিবার ইয়াবা, মদ, গাঁজা সহ সব ধরণের মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। গত ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই আমিনুরকে ১০ পিস ইয়াবাসহ সোনাহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে আটক করে থানা পুলিশ। যার মামলা নং-১৯/২০১৭।

এলাকাবাসীর অভিযোগ মিজু অবৈধ ভাবে নানা অপকর্ম করে রাতারাতি তিনটি বিলাস বহুল বাড়ি সহ অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। তার অপকর্ম নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একাধিক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে মিজু প্রতিবারেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মিজুর নামে জমাজমি সহ আরও অন্তত ৫টি বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

মামলাগুলো জি,আর-০৪/১৬০ (ভূরুঙ্গা) তাং-৯ডিসেম্বর/১৩ইং, সি,আর-১৪৯/১৩ (ভূরুঙ্গা) তাং-১৯ডিসেম্বর/১৩ইং, সি,আর-১৪৮/১৩ (ভূরুঙ্গা) তাং-১৯ডিসেম্বর/১৩ইং, জি,আর-৮৬/১৭ (ভূরুঙ্গা) তাং-২মে/১৭ ইং। যার কিছু চলমান। তবে মিজানুর রহমান মিজু তার বিরুদ্ধে আনিত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগীরা অভিযুক্ত মিজু সহ তার দোসরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করছে।

ওসি মুহাঃ আতিয়ার রহমান জানান, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে, দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আমারসংবাদ/এমআর