শুক্রবার ২৯ মে ২০২০

১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

মে ১৬,২০২০, ০৮:০১

মে ১৬,২০২০, ০৮:০১

ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধনে বাবা

রাজিবপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সোহাগ মিয়ার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মামলা, অভিযোগ ও মানববন্ধ করার পরও আসামিরা শাস্তি পাচ্ছে না, অভিযোগ করেছেন নিহতের পিতাসহ আত্মীয় স্বজনরা।

মূলত ১৯ এপ্রিল জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের সোনকুড়া গ্রামের সোহাগ মিয়া (১৮), গোলাম কিবরিয়া (২০) দুই ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে লোহার রড, ক্রীকেটের স্ট্যাম্প, লাঠি দিয়ে মারপিট করে একই ইউনিয়নের নিমাইমারী গ্রামের মাসুম, পলাশ, নাঈম, ছামিউলসহ আরও কয়েকজন।

এতে গুরুতর আহত হয় সোহাগ, গোলাম কিবরিয়া দুই ভাই। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে আহত অবস্থায় রাজিবপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সোহাগের অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেন। সেখানেও কোন আশানুরুপ ফল না পাওয়ায় সোহাগকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সোহাগের পিতা আতাউর রহমান (৫৫) বাদী হয়ে ২০ এপ্রিল দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় ৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৫, তাং ২০/০৪/২০২০খ্রিঃ।

২৫ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগ মৃত বরণ করে। ওইদিন সোহাগের বাবা আগের মামলা পরিবর্তন করে ৩০২ ধারায় মার্ডার মামলায় আরও ৫ জনকে আসামি যোগকরে দেয়। বর্তমানে মোট আসামি ৯ জন। গত ৯ মে ২নং আসামি পলাশকে গ্রেপ্তার করে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। বাকী আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয় নি।

এদিকে সহপাঠি নিহতের ঘটণায় রাজিবপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং নিহতের আত্মীয় স্বজনরা আসামিদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানিয়ে ১০ মে একটি মানববন্ধন করেছে ডাংধরা ইউনিয়নের কাউনিয়ার চর বাজারে। শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণ, ছাত্র, শিক্ষক ও আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসছে।

১৬ মে শনিবার নিহত সোহাগের পিতা আতাউর রহমান সাংবাদিকের নিকট বলেন, “ছেলের মৃত্যতে যারা জরিত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হক। পুলিশ প্রশাসন আসামি ধরছে না। এ জন্য মানববন্ধনও করেছি। তাতেও কোন কাজ হচ্ছে না। এখন আপনারা লেখালেখি করেন।”

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমএম মঈনুল ইসলাম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, “একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

আমারসংবাদ/এমআর