সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২০

১১ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

সেপ্টেম্বর ২৯,২০২০, ০৬:২৭

সেপ্টেম্বর ২৯,২০২০, ০৬:২৭

সিরাজদিখানে বন্যায় মাছ চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

করোনা ভাইরাস ও বন্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারও মৎস্য চাষিরা আশা নিয়ে মাছের চাষ করলেও তাদের সেই আশা চলমান করোনা ভাইরাস ও বন্যায় ছাই ঢেলে দিয়েছে। মৎস্য চাষিরা বিভিন্ন ভাবে ধারদেনা করে সুখের আশায় এ মাছ চাষ করে বন্যার কারণে পথে বসে গেছেন। বেঁচে থাকার শেষ চেষ্ঠায় অনেকেই চড়া সুদে দাদন নিয়ে মাছ চাষ করে ছিলেন। কিন্তু বন্যায় সেই মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। অনেকেই মাছ রক্ষার জন্য শেষ চেষ্টা হিসেবে বাঁশের খুঁটির সাথে জাল দিয়ে বেড়া দিয়েও বন্যার পানির কারণে সেই মাছ রাখতে শেষ রক্ষা করতে পারেনি। এ ক্ষতিতে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানা গেছে, উপজেলার ৬৬৮টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে ৪০৫জন মৎস্যচাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মোট আয়তন ২২৯.৮৭ হেক্টর। এতে ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ২১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে কম দামে মাছ বিক্রি করায় লোকসানে পড়েন ১৭ জন মৎস্যচাষী। এতে ১৪ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা ক্ষতি হয়। সর্বমোট এ উপজেলায় মৎস্য সেক্টরে করোনা ও বন্যায় ১কোটি ৩৫ লক্ষ ৮১ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ আরও অনেক বেশী বলে জানা গেছে।

উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের তেঘরিয়া গ্রামের মো. আলী বলেন, করোনা ভাইরাসে কম দামে মাছ বিক্রি করে প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকার মতন লোকসান গুনতে হয়েছে। এছাড়া বন্যায় আমার বড় বড় দুইটা পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় আমার ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরকারি প্রণোদনা চাই। যদি প্রণোদনা না দেয় তবে মাছ চাষীরা ঘুড়ে দাঁড়াতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা কামনা করছি।

উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ রাঙ্গামালিয়া গ্রামের মান্নান মাঝি বলেন, আমার প্রায় ৬টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা করে তবে পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে পরে বাঁচতে পারবো।

বাসাইল ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের মৎস্য চাষী মো. আব্বাস বলেন, ধার দেনা করে মাছ চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন ছেলে-মেয়েকে কিভাবে মানুষ করবো, কিভাবে সংসার চালাবো, কিভাবে ধার দেনা শোধ করবো, সে দুশ্চিন্তায় চোখে মুখে অন্ধকার দেখছি। এ অবস্থায় সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াবে এটাই প্রত্যাশা করছি।

উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের গোবরদী গ্রামের মৎস্যচাষী মো. ইয়াসিন বলেন, এবার আমার দুইটা পুকুরের অনেক মাছ চলে গেছে। এতে প্রায় আমার ১ লক্ষ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। আমি অনেক কষ্টের কিছু মাছ রাখতে পেরেছি। সে ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছি।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোছা.আক্তামুন লিন্নাছ বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এর কারণে অনেক চাষী ন্যায দামে মাছ বিক্রি করতে পারেননি। এতে মৎস্যচাষীদের অনেক লোকসান হয়েছে। এছাড়া এবারের বন্যায় প্রায় ৬৬৮টি পুকুরের মাছ সব তলিয়ে গেছে । এর কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাষীদের। আমরা করোনাভাইরাস এর ক্ষয়ক্ষতি হওয়া চাষী ও বন্যায় তলিয়ে যাওয়া চাষীর তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেছি। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষীদের প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

আমারসংবাদ/কেএস