বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২০

১৪ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

সেপ্টেম্বর ২০,২০২০, ০৭:৪৯

সেপ্টেম্বর ২০,২০২০, ০৭:৫৪

কেরানীগঞ্জে আগুনে পুড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

পরিবারের অভিযোগ হত্যা

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কোন্ডা ইউনিয়নের পুরাতন বাক্তারচর এলাকায় আগুনে পুরে শাহীনুর(৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। স্বামীর বাড়ীর লোকজন এটাকে আত্মহত্যা বললেও মেয়ের পরিবার বলছেন এটা পরিকল্পিত হত্যা।

শাহীনুরের ভাই কাসেম জানান, আমার বোনের স্বামী নজরুল ইসলাম ভুট্রু ও তার পরিবারের লোকজন আমার বোনকে আগুনে পুড়ে হত্যা করেছে। সে একজন জুয়ারি, জুয়ার টাকার জন্য আমার বোনকে প্রায়ই মারধর করতো। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার জুয়ার টাকার জন্য আমার বোনকে চাপ দিলে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে বোনের স্বামী ভুট্রু ও তার পরিবারের লোকজন মিলে ঘরে আটকে মারধর শেষে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। চারদিন চিকিৎসাধীন থেকে আজ মারা যায় আমার বোন। আমরা আমার বোনের হত্যার বিচার চাই।

তবে স্বামীর বাড়ীর লোকজন বলছে এটা আত্মহত্যা! পারিবারিক কলহের ঝেড়ে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করেছে শাহীনুর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক প্রতিবেশী জানান, ছেলে মা পানু বেগম তার মায়ের বাড়ীর সম্পত্তির ১৭ লখ টাকা তিন ছেলে ও এক মেয়ের মাঝে ভাগ করে দিতে চাইলে সবাইকে একত্রিত করে ঘরোয়া সালিশে বসে, সালিশে রায় হয় তিন ভাই সমান অধিকার পাবে এবং তাদের মা এক মাস করে একেক ছেলের কাছে থাকবে।

তবে এটা মানেনি ছেলের বউ শাহীনুর। তার বক্তব্যে সে টাকাও নিবেনা শাশুড়ীকে খাওয়াবেও না। এতে ক্ষুধ্য হয়ে স্বামী নজরুল তাকে চড় মারলে সে ঘরে গিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করে। স্বামী নজরুল ইসলাম ভুট্রুর গ্রাম পুরাতন বাক্তারচর এলাকার সবাই এই কথা বললেও মেয়ের বাড়ী লোকজন এটাকে আত্মহত্যা মানতে নারাজ। তারা বলছে এটা আত্মহত্যা হলে তারা কেনো একদিন আমার বোনকে দেখতে হাসপাতালে গেলোনা। তারা হত্যাকারী বলেই সবাই পালাতক। সরেজমিনে গিয়েও পালাতক থাকার সত্যতা মিলেছে।

এব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জামান জানান, এখনো পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি, তবে বিষয়টি থানায় অবহিত করা হয়েছে। দাফন কাফন শেষে এব্যাপারে মামলা হবে।

কোন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে কেউ অভিযোগ করেনি।

উল্লেখ্য মৃত শাহীনুর ও ভুট্রু দাম্পত্যজীবন এক ছেলে (১০) ও এক মেয়ে (৮) এর জনকজননী। শাহীনুরের পিতা ফয়েজ উদ্দীনের ৫ মেয়ের মধ্যে সে তৃতীয়। তাদের বাড়ী একই ইউনিয়নের ঘোষকান্দা গ্রামে।

আমারসংবাদ/এমআর