মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০

২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

ওমর ফয়সাল, ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম)

জুলাই ০৭,২০২০, ১০:১৩

জুলাই ০৭,২০২০, ১০:১৩

দেখা হল না সন্তান হত্যার বিচার!

ছেলের শোকে না ফেরার দেশে বাবা

ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাশেদ কামাল। ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্র কন্ঠের অধিকারী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক নির্ভিক সৈনিক। আওয়ামী রাজনীতির একনিষ্ঠ কর্মী। অন্যায়-অবিচার চোখে পড়লেই আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিতেন। দিতেন প্রতিবাদী গর্জন।

এসব মেনে নিতে পারেনি এলাকার নানা অপকর্মের হোতারা। রাশেদ কামাল হয়ে উঠে জুলুমবাজদের পথের কাঁটা। এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ-ভূমিদস্যুরা তাদের পথের কাঁটা পরিষ্কার করতে হাতে নেয় হত্যার পরিকল্পনা।

শেষ পর্যন্ত এসব সন্ত্রাসীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাশেদ কামালকে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেয়। গত ১১ জুন রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নির্মম এ খুনের প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে এখনো অধরা মূল আসামীরা। এরমধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট রাশেদ কামালের পরিবার। এ পরেও বিচারের পথ চেয়ে আছেন তারা। অচিরেই নির্মম এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের কাঠগড়ায় দেখতে পাবেন; এ আশা নিয়ে প্রহর গুনছেন নিহত রাশেদ কামালের মা-বাবা, স্ত্রীসহ তিন অবুঝ সন্তান।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। আর দেখা হলো না ছেলে হত্যার বিচার। ছেলের শোক সইতে না পেরে অভিমান নিয়েই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন রাশেদ কামালের পিতা আব্দুর রব্বান। ছেলে রাশেদ কামাল হত্যার ২৬ দিনের মাথায় তিনি আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন।

কয়েক সপ্তাহ’র ব্যবধানে বাবা-ছেলের এ করুণ মৃত্যুতে রাশেদ কামালের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। শোকে মুহ্যমান রাশেদ কামালের সহযোদ্ধা ও অনুসরীরা। শোকের ছায়া নেমেছে এসেছে ফটিকছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে। আর সময় ক্ষেপণ না করে অনতিবিলম্বে রাশেদ কামাল হত্যাকাণ্ডে ইন্ধনদাতাসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রশাসনের প্রতি আবারো জোর দাবি জানিয়েছেন তার দলীয় নেতাকর্মীরাসহ সবাই।

আমারসংবাদ/এমআর