মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০

২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা

জুলাই ০৫,২০২০, ০৬:৩৮

জুলাই ০৫,২০২০, ০৬:৫০

মাগুরায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা

যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক স্বামী তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

অভিযুক্ত স্বামী মাগুরা জেলা শহরের তাজমহল জুয়েলার্সের মালিক ফারুক শিকদার। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর ( নারী)পরিস্কার বিশ্বাস মামলাটি তদন্ত করিবেন বলে মাগুরা সদর থানা জানান।

এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্ত্রী নিপা মোনালিসা নির্যাতিত গৃহবধূ বাদী হয়ে তার স্বামী ফারুক শিকদার তাজ এর বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানাতে মামলা করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ০১/০৭/২০২০ ইংরেজিতে ১১(গ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০ সালের আইন সংশোধনী ২০০৩; যৌতুকের দাবীতে মারপিট করিয়া জখম করার অপরাধ ও যৌতুকদাবী নগদ ৭,লক্ষ টাকা উল্লেখ করেন।

অভিযুক্ত স্বামী মো. ফারুক শিকদার (৩৫) পিতা মৃত্যু মকবুল শিকদার গ্রাম নালিয়ারডাঙ্গী মাগুরা সদর উপজেলা। কিছু দিন আগে ফারুক শিকদার গ্রেপ্তার হন ইয়াবাসহ নতুন বাজার নিজের বাসা থেকে গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) হাতে। জামিনে মুক্তি পেয়ে ফারুক শিকদার টাকার জন্য আবার মারপিট শুরু করেন বলে সাংবাদিকদরে জানান স্ত্রী নিপা মোনালিসা ও নিপার আম্মা।

এ সময় ফারুক শিকদার এর স্ত্রী নিপা(৩০) মোনালিসা সাংবাদিক কর্মিদের প্রশ্নের জবাবে জানান, আনুমানিক ০৫ বছর পূর্বে ফারুক শিকদার ক্ষমতাবলে আমার স্বামী তারেক এর সংসার থেকে ছাড়িয়ে এক প্রকার জোর পূর্বক দ্বিতীয়বার তার সাথে বিবাহ করতে বাধ্য করে। তারপর থেকে ফারুক শিকদার এর সংসারে শত নির্যাতনের শিকার হয়ে তার পরিবারে থাকি।

ফারুক নিজে একজন মাদক সেবনকারী সে প্রতিনিয়তো বাসায় ইয়াবা সেবন করে। আমাকে তার সাথে মাদক সেবন করার জন্য ও মারপিট করে। মাঝে মাঝে ফারুক শিকদার তার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাকে নিয়ে যায় বাহিরে আমি যেতে রাজি না হলে আমাকে মারপিট করে।

তিনি আরও বলেন, আমার পরিবার আমার প্রথম পক্ষের মেয়ের কথা বিবেচনা করে ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে। আমার সুখের কথা চিন্তা করে আমার বাবা ১০ লক্ষ টাকার মালামাল দেয় আমার ব্যবহার এর জন্য । বর্তমান আমার সংসারে একটি ছেলে একটি মেয়ে রয়েছে। ফারুক সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঝামেলায় জরিয়ে

আমার কাছে ব্যবসার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। যৌতুক হিসেবে এ টাকা স্ত্রী’র ভাইয়ের কাছ থেকে এনে দিতে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু টাকা আনতে অস্বীকার করায় স্ত্রীর ওপর নির্মম নির্যাতন শুরু করেন ফারুক শিকদার।

এক পর্যায়ে গৃহবধূকে মেরে রক্তাক্ত জখম করে এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন তার ছোট্ট ভাই রাফিকুল। খবর পেয়ে নির্যাতিত গৃহবধূর ভাই গিয়ে বোনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন চিকিৎসার জন্য।

নির্যাতিত ওই গৃহবধূ বলেন, ফারুকের ছোট্ট ভাই রাফিকুল আমাকে ফোন দিয়ে থানা থেকে অভিযোগ করতে চাপ সৃষ্টি করছেন। এমতাবস্থায় আমি সহ আমার পরিবার নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।

বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে আমার উপর নিয়মিত নির্যাতন করা হয়। কিন্তু সন্তান তিনটি থাকায় ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এতোদিন বিষয়টি কাউকে জানায় নি।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর ভাই, মাগুরা পপুলার ইলেক্ট্রনিক এর মালিক মাছুম বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে এর আগেও অনেক টাকা দিয়েছি, তারপরও আমার বোনের ওপর টাকার জন্য নির্যাতন চালানো হয়। কিন্তু এবার সীমা অতিক্রম করেছে। এটির একটা সমাধান দরকার। আমার বোনের সঙ্গে বিয়ের আগে ও ফারুক শিকদার আরও একটি বিয়ে করেন।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি তারা গোপন রাখেন। ওই ঘরে তার একটি পুত্রসন্তানও আছে। ওই স্ত্রীর সঙ্গে মাগুরা সদর থানার সামনে কাউন্সিল পাড়া বাড়িতে থাকেন। বাড়ি ছাড়া করতে আমার বোনের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে ফারুক শিকদার ও তার পরিবার।পরিশেষে আমার বোন মাগুরা থানাতে মামলা দিয়েছেন। আমরা আইনের সহায়তা কামনা করছি।

এ বিষয়ে ফারুক শিকদার এর সাথে একাধিক বার চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রকার যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আমারসংবাদ/এমআর