বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০

৩১ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ০৩,২০২০, ০৩:০৪

জুন ০৩,২০২০, ০৩:০৪

লিবিয়ায় ২৬ হত্যায় ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদাহ শহরে ২৬ বাংলাদেশির হত্যার ঘটনায় ঢাকায় একটি মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সিআইডির এসআই রাশেদ ফজল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং হত্যার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে মোট ৩৮ জনকে।

র‌্যাবের হাতে দুদিন আগে ঢাকায় গ্রেপ্তার কামাল হোসের ওরফে হাজী কামাল (৫২) ছাড়াও ঢাকার শহীদ তাজউদ্দিন সরণির ট্র্যাভেল এজেন্সি নাভীরা লিমিটেড এবং হাতিরঝিলের ফ্লাইওভার ট্যুরস অ্যান্ড ট্র্যাভেলস লিমিটেডের মালিক দুই ভাই শেখ মো. মাহবুবুর রহমান (৪৯) ও শেখ সাহিদুর রহমান (৪০) এবং পুরানা পল্টনের স্কাই ভিউ টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিককে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের কামাল হোসেন (৪২) ও শাহাদাত হোসেন নামের দুজনের নামও রয়েছে এজাহারে।

আসামিদের তালিকায় নাম এসেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের তানজিলুর ওরফে তানজিলুম ওরফে তানজিদ (৩৫), তানজিদের ভাতিজা নাজমুল (২৪), বাচ্চু ওরফে বাচ্চু মিলিটারি (৫৫), মো. জোবর আলী (৫৫), জাফর (৫৫), স্বপন, মিন্টু মিয়া (৩৫), হেলাল মিয়া (৪৫), হাজী শহীদ মিয়া (৬১), মো. খবির উদ্দিন, মুন্নি আক্তার রূপসী ও লালন।

মামলার আসামিদের মধ্যে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার জুলহাস সরদার (৪৫) এবং সদর উপজেলার দিনা বেগম (২৫) ইতোমধ্যে স্থানীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

এছাড়া দিনার স্বামী নজরুল মোল্লা (৩৫), একই জেলার রাশিদা বেগম (৪২), বুলু বেগম (৩৮), আমির শেখ (৫৫), জাহিদুল শেখ (৩২), জাকির মাতুব্বর (৬০), আমির হোসেন (৫৫), নাসির, সজীব মিয়া, রেজাউল বয়াতী এবং তিন ভাই নূর হোসেন শেখ (৪০), ইমাম হোসেন শেখ (৩৫) ও আকবর হোসেন শেখকে (৩২) আসামি করা হয়েছে সিআইডির মামলায়।

গোপালগঞ্জের লিয়াকত শেখ ওরফে লেকু শেখ (৪৫), আ. রব মোড়ল (৪০), কুদ্দুস বয়াতী; শরীয়তপুরের সাদ্দাম (৩৫), কুষ্টিয়ার আলী হোসেনও (৩০) এ মামলার আসামি।

এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে এজাহারে আসামি করা হয়েছে বলে ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে ৩৮ জন তরুণ ভারত ও মিসর হয়ে লিবিয়ায় যান। সেখান থেকে ইতালিতে যাওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।

কিন্তু সুদানের আরও কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে এই বাংলাদেশি তরুণেরাও লিবিয়ায় দুই দফা অপহরণের শিকার হন। প্রথম দফা অপহরণের পর মুক্তিপণ দিয়ে তাঁরা ছাড়া পান।

দ্বিতীয় দফায় চাহিদামাফিক অর্থ দিতে না পারায় অপহরণকারীরা তাঁদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তাঁরা অপহরণকারী দলের হোতাসহ দুজনকে হত্যা করেন।

এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে অপহরণকারীরা নির্বিচারে জিম্মিদের ওপর গুলি চালালে ২৬ জন বাংলাদেশি ও ৪ জন সুদানি মারা যান।

আমারসংবাদ/এআই