বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০

৩১ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

সামসুল ইসলাম সনেট, কেরানীগঞ্জ

জুন ০৩,২০২০, ০২:৪৫

জুন ০৩,২০২০, ০৪:৩৩

লিবিয়ায় নিহত আরফানের কেরানীগঞ্জের বাসায় শোকের মাতম

মানবপাচারকারী চক্রের নির্মমতার শিকার লিবিয়ার মাজদা শহরে নিহত ২৬ বাংলাদেশির বাড়িতে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। প্রতিটি পরিবার তাদের আপনজনদের হারিয়ে পাগল প্রায়।

নিহত ২৬ জনের একজন ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের সিরাজনগর গ্রামের আরফান হোসেন (৩৩)। তার পিতার নাম মৃত ওমর আলী এবং মাতার নাম নাজমা আক্তার।

প্রায় সারে ৭ মাস আগে উন্নত জীবন মানের আশায় স্ত্রী, ৫ বছর এবং  ৮ মাস বয়সী দুই মেয়ে রেখে দালালের মাধ্যমে স্বপ্নের ইউরোপের উদ্যেশে ঘর ছাড়েন আরফান। যে লোকের মাধ্যমে তিনি লিবিয়া পৌছান তার নাম জাহাঙ্গীর (৪৫) অফিস ঢাকা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে। থাকেন যাত্রাবাড়ী।

গত কয়েকদিন আগেও দালাল চক্র ইতালির যাত্রার জন্য ২ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় আরফানের বাড়ি থেকে। এর কয়েকদিন পর হঠাৎ খবর আসে লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি নিহতের একজন কেরানীগঞ্জের আরফান। সেই থেজে নিহত আরফানের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে তার মা এবং স্ত্রী।

প্রতিবেশীরাদের মাথায়ও যেনো আকাশ ভেঙে পড়েছে। নিহত পরিবারের সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং সমবেদনা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি  প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ও ছাত্রনেতা মোঃ মাসুদ রানা।

এদিকে লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা কামাল হোসেন ওরফে হাজী কামালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

গত ২জুন  (সোমবার) সকালে রাজধানীর গুলশান থেকে কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া  নিহতের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারীপুরে ১৪ জনকে আসামি করে ৩টি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে গত ২৮ মে লিবিয়ার সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী চক্র। এতে আহত হয় আরও ১১ জন।

দালাল চক্রের শাস্তি ও তাদের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আমারসংবাদ/এমআর