বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০

৩১ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ০২,২০২০, ০৯:১৪

জুন ০২,২০২০, ০৯:১৬

যাত্রী কম, ভাড়া দ্বিগুণ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে টানা ৬৬ দিন বন্ধ রাখার পর গেলো ১ জুন থেকে গণপরিবহনের চলাচল শুরু হয়েছে।

গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নেয়ার শর্তে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। যা গেলো সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

তবে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে বাসের মালিকরা দিগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ জানালেন অনেক যাত্রী।

যাত্রীদের অভিযোগ তাদের জিম্মি করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয়ে প্রশাসনের কোনো নজরদারি না থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা, যশোর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকাগামী এসব বাসে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিলেট থেকে ঢাকায় আসা রুপসী বাংলা, ইউনিকসহ বেশকিছু দুরপাল্লার বাস যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকাগামী দুরপাল্লার সোহাগ, তিশা, রয়েলসহ সবগুলো বাসেই আদায় করা হচ্ছে দিগুণ ভাড়া।

ভাড়া বেশি আদায় করার কথা স্বীকার করে বাস মালিকরা বলছেন, যাত্রী কম থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। করোনা ঝুঁকির কারণে যাত্রীরা বাসে উঠছে কম।

বিআরটিএ সূত্র বলছে, বাস-মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস ক্রয়, ব্যাংকঋণ, জ্বালানি খরচসহ ২০ ধরনের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়।

কোনো একটা উপকরণের ব্যয় বাড়লেই ভাড়া বাড়ানোর প্রশ্ন আসে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে কোনো কিছুর ব্যয় বাড়েনি। ফলে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে শুধু যাত্রী কম বহনের আশ্বাসের ভিত্তিতে।

বর্তমানে ঢাকায় কিলোমিটারপ্রতি মিনিবাসে ১ টাকা ৬০ পয়সা এবং বড় বাসে ১ টাকা ৭০ পয়সা ভাড়া নির্ধারিত আছে। দূরপাল্লার পথে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ১ টাকা ৪২ পয়সা। ঢাকায় সর্বনিম্ন ভাড়া আছে মিনিবাসে ৫ এবং বড় বাসে ৭ টাকা। আর দূরপাল্লার পথে ফেরি বা সেতুর টোল যুক্ত হয়।

ঢাকায় প্রতিটি বাস-মিনিবাসে ২০ শতাংশ এবং দূরপাল্লার পথে ১০ শতাংশ আসন ফাঁকা থাকবে—এটা ধরে নিয়েই এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ঢাকার বাসে এমনিতেই ২০ শতাংশ এবং দূরপাল্লার বাসে ১০ শতাংশ আসন ফাঁকা থাকার কথা।

আইন অনুসারে মিনিবাসের আসন ৩০টি। আর বড় বাসের ৫১টি। ঢাকার প্রতিটি বাস-মিনিবাসে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আসন বাড়িয়ে নিয়েছেন মালিকেরা।

অর্থাৎ সরকার যে হিসাব করে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, তাতে বিদ্যমান বাস-মিনিবাসের ৫০ শতাংশ ফাঁকা রাখলেও লোকসান হওয়ার কথা নয়।

এছাড়া ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে পরিবহনমালিকেরা ‘সিটিং সার্ভিস’সহ নানা নামে আগে থেকেই শতভাগ বা এরও বেশি ভাড়া আদায় করে আসছেন। নতুন করে ৮০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া সেই আগের বাড়তি ভাড়ার সঙ্গেই যুক্ত করে আদায় করবেন পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা।

অন্যদিকে দূরপাল্লার বাসের মধ্যে সরকার শুধু শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন (নন-এসি) বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে। বিলাসবহুল ও এসি বাসের ভাড়া মালিকেরা নিজেরাই ঠিক করে থাকেন। অর্থাৎ বাজারে চাহিদা-জোগানের ওপর ভাড়া নির্ভরশীল।

এসব বাসের ভাড়া আগে থেকেই এত বেশি যে কখনো কখনো ২০-৩০ শতাংশ আসন ফাঁকা থাকলেও তাঁদের লোকসান গুনতে হয় না। সবার জন্য ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া অযৌক্তিক।

এছাড়া দূরপাল্লার পথের নন-এসি বাসগুলোও সব সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করে থাকে। ফলে এখন ৮০ শতাংশ বাড়তি মানে হচ্ছে আগের বাড়তি ভাড়ার ওপর আরও ভাড়া বাড়ানো।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহর কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার নির্ধারিত ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি আমাদের লাভ হবে না।

কারণ আমাদেরকে অর্ধেক যাত্রী নিতে হচ্ছে। আর দুই মাস বসে থেকে আমাদের গাড়ির অনেক যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে গেছে। কোনো আয় হয়নি। তারপরও আমরা সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মের মধ্যে থাকতে চেষ্টা করছি।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘ দুই মাস বসে থাকা শ্রমিকদের ওপর ৬০ শতাংশ ভাড়া অতিরিক্ত চাপ। পরিবহণের অনিয়ম বন্ধ করলে বাস ভাড়া বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন হবে না বলে আমার বিশ্বাস।

এই বিষয়ে আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অনুরোধ করবো ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি যেন বিবেচনা করা হয়।

আমারসংবাদ/এআই