বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০

৩১ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ০২,২০২০, ০৪:৪৭

জুন ০২,২০২০, ০৪:৫৯

ফের আসছে ছুুটির ঘোষণা, কঠোর হবে সরকার!

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় লকডাউন।

সাধারণ ছুটি ঘােষণা করে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান চলাচলও বন্ধ করে দেয় সরকার।

কয়েকদফা বাড়ানোর পর গত ৩১ মে শেষ হয় সাধারণ ছুটির মেয়াদ। সীমিত আকারে অফিস-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান চলাচল শুরু হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেকেই।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটি সাধারণ ছুটি শিথিল করার ফলে সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের বলেছেন, সংক্রমণ বেড়ে গেলে আবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে, সেই ছুটি হবে আরও কঠোর।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থাকা কেন্দ্রীয় ছয় নেতা গেলো শনিবার বলেন, মধ্য জুন পর্যন্ত লকডাউন ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আরোপ করা যেত। এখন হিতে বিপরীত হতে পারে। নাজুক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে পরিস্থিতি সামাল দেয়া।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ১৫টা দিন পর্যবেক্ষণ করতে পারি। সংক্রমণ বেড়ে গেলে আবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে উৎপাদন শিল্পগুলো তাদের উৎপাদন শুরু করুক। তাছাড়া প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে সাধারণ ছুটি শিথিল করা হয়েছে। তবে আমি এও নির্দেশ দিয়েছি টেস্ট আরও বাড়াতে হবে। সংক্রমণ বেশি হলে পরবর্তীতে কঠোর হবে লকডাউন।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের অসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি হয় এবং তা যদি জনস্বার্থের বিপরীতে চলে যায়, তাহলে সরকারকে বাধ্য হয়ে আবারও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সোমবার (১ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের নিজের সরকারি বাসভবন থেকে সেতু বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এ কথা বলেন তিনি।

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে জীবন ও জীবিকার স্বার্থে আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বেছে নিতে হবে মনে করেন তিনি।

তবে জনগণের অসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতি অবনতি হলে সরকার আরও কঠোর হবে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের মধ্যে সাধারণ ছুটি তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত দুঃচিন্তা ও উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

সরকারকে ছুটি আরো ১৫ দিন বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে সংগঠনটি। সমপ্রতি সাধারণ ছুটি নিয়ে এক ডিজিটাল আলোচনায় একথা জানায় সংগঠনের নেতারা।

মহামারি প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমন্বয় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তারা।

আমারসংবাদ/এআই