সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

৬ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

জনাব আলী, রাজশাহী

ফেব্রুয়ারি ১৪,২০২০, ০২:২৭

ফেব্রুয়ারি ১৪,২০২০, ০৮:২৭

রাজশাহীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম বেড়েছে

ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ রাজশাহী নগরবাসী। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি এ ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া গভীর রাতে নগরীতে ফেরতগামী মানুষ চরম শঙ্কায় পড়ছেন।

রাজশাহী নগরীতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গত ১৯ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে রামেকের দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়া হয়।

এর দুদিন আগে গোদাগাড়ির এক অটোরিকশা চালককে নগরীর সাগরপাড়া এলাকায় ছুরিকাঘাত করা হয়। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশে ওই অটো চালক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়। প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনায় জনমনে শঙ্কা বাড়ছে।

রাজশাহী মহানগরীর একজন ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা অনেকটা আক্ষেপ করেই বলছিলেন, ‘এমন কোনো দিন কাটছে না, যেদিন ছিনতাই হচ্ছে না। আর ছিনতাই হলেই আমাদের ওপর চাপ বাড়ে। কিন্তু কোনোভাবেই ছিনতাই রোধ করা যাচ্ছে না। এক শ্রেণির অটোরিকশা চালক ও মোটরসাইকেল চালকরা এখন ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েছে। চলন্ত অবস্থায় তারা ছিনাতাই করে চলেছে। ফলে শহরের ছিনতাইকারীরা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৬ আগস্ট ভোরে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রাজশাহী সিটি কলেজছাত্র ফারদিন ইসনা আশারিয়া রাব্বীকে (১৯) হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ঘটনার পরের দিন মাদকসেবী ওই এলাকার বাসিন্দা কুদরত আলীর ছেলে রনককে (২৩) আট গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রনক স্বীকার করে কলেজছাত্র রাব্বীকে সে খুন করেছিল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে। রাজশাহীতে গত পাঁচ-ছয় বছরে ছিনতাইরকারীর ছুরিকাঘাতে কমপক্ষে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পথচারী হত্যার ঘটনাটি প্রথম গত ৬ আগস্ট। এর আগের হত্যাকাণ্ডগুলো ছিলো অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একের পর এক ছিনতাই নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, ‘কয়দিন আগে এক মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। মোটরসাইকেল বাহিনী ছিনতাইকারীরা অটোরিকশার অপরে থাকা অবস্থায় ভ্যানিটি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যার মধ্যে একটি মোবাইলসহ বেশ কিছু টাকাও ছিলো। কিন্তু সেগুলোর আর হদিস পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে এই এলাকার সব পরিবার ছিনতাই আতঙ্কে রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন, ‘এখন ছিনতাইকারীরা নানা কৌশলে ছিনতাইয়ে জড়িত হয়ে পড়েছে। ভোরে বা গভীর রাতে হেঁটে, দিনের বেলা কেউ মোটরসাইকেল নিয়ে আবার কেউ অটোরিকশা নিয়ে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়ছে। এরা অনেকটাই বেপরোয়া। বড় কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটার পর ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা তল্লাশির জন্য ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু যেখানে হাজার হাজার অটোরিকশায় ভরে আছে শহর, সেখানে কয়টা তল্লাশি করা যায়। এগুলোর দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না আনলে ছিনতাই রোধ করা সম্ভব নয়। আবার মোটরসাইকেলে ছিনতাইকারী বাহিনীর সদস্যরাও বেপরোয়া।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সনাক) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আহম্মেদ শফিউদ্দিন বলেন, ‘রাজশাহী নগরীর ছিনতাই এখন খুব বড় বেদনাদায়ক। গত ছয় মাসে যেভাবে একের পর এক ছিনতাই হচ্ছে, তাতে শান্তির শহর রাজশাহীর নামই হয়তো একসময় পরিবর্তন হয়ে গিয়ে ছিনতাইয়ের শহরে পরিণত হবে। কিন্তু এটি মেনে নেয়া যায় না। এই ছিনতাইকারীদের দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রশাসন এবং আমাদের নগর সংস্থা ও রাজনীতিবিদরা একটু দৃষ্টি দিলেই শহরের ছিনতাই রোধ করা সম্ভব।’

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ছিনতাই হচ্ছে। তবে এর জন্য আমাদের সকলের সচেতন হওয়া দরকার। ছিনতাই রোধে শুধু পুলিশ নয়, পথচারীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের কোনো কিছু ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাতে হবে। ছিনতাই রোধে আমরা পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করেছি। এটি এখন আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শহরের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দ্রুত সংস্কার করা দরকার। যেসব স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেসব স্থানে বসানো দরকার। তবেই দ্রুত ছিনতাইকারী শনাক্ত করা যাবে।

আমারসংবাদ/এমআর