বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট

মে ২১,২০২০, ০৯:২৬

মে ২১,২০২০, ০৯:২৬

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান

চারঘাট-বাঘায় আমসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কবলে আমের রাজধানী রাজশাহীর চারঘাট-বাঘায় আমসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে ক্ষতি পুষিয়ে উঠা অসম্ভব বলে দাবি আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের। ঝরে পড়া সেই আম বিক্রি হচ্ছে ৫০ পয়সা কেজি দরে। অনেকেই আবার আমের ব্যবসায় চালান ঘরে তোলা দুষ্কর হবে বলে জানান।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফান বৃহস্পতিবার ভোর রাত পর্যন্ত চারঘাট-বাঘায় তা-ব চালায় বিরতিহীনভাবে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে আম সংশ্লিষ্টরা। এমনি মহামারি করোনায় আম নিয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তার পরে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তা-ব সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। আর কয়দিন পরেই সব ধরনের আম পাড়া শুরু হবে। এরই মাঝে সব কিছু শেষ করে দিলো। কিভাবে আমে লাগানো পুঁজি ঘরে তুলবো আল্লাহ পাকই জানেন।

আজ সকালে উপজেলার রায়পুর এলাকার সরেজমিন গেলে সেখানকার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা এভাবেই তাদের কথাগুলো বলছিলেন।

কালুহাটি গ্রামের আমচাষি বীর বাহাদুর জানান, ঝড়ে আমসহ ভুট্টুা ও তিলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে আম বিক্রি হতো ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। সেই আম ঝড়ে পড়ে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০ পয়সা কেজি দরে। আম কেনার লোকও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি মহামারি করোনায় আম নিয়ে রয়েছে শংসয়। তার ওপর এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবার জীবনে বয়ে এনেছে কষ্টের হাঁড়ি। আমবাগানে যেতেই মন ভেঙে পড়ছে। এভাবে কখনো ঝড়ে এমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, আমের বেশ অনেক ক্ষতি হয়েছে। যা পুষিয়ে উঠা কঠিন হবে। তবে দুটি উপজেলায় গড়ে ১০ শতাংশ আমের ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফসলের তেমন একটা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানালেন কৃষি কর্মকর্তা।

এ দিকে ঝড়ে আমসহ ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত বুধবার সন্ধ্যায় থেকে চারঘাট-বাঘা উপজেলা ছিলো বিদ্যুতবিহীন। কোথাও ছিলো না বিদ্যুৎ। তবে দুপুরের দিকে দুটি উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে পারলেও অনেক এলাকা এখনো রয়েছে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায়। এদুটি উপজেলায় বিদ্যুৎ চালু করতে অনেক দেরি হবে বলে দাবি বিদ্যুত বিভাগের।

বিষয়টি সম্পর্কে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর চারঘাট জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক মুক্তার হোসেন বলেন, বিদ্যুতের মেইন লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই চেষ্টা করছি সব এলাকায় বিদ্যুৎ সচল করতে।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা বলেন, ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ঘরবাড়িসহ ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি।

আমারসংবাদ/এমআর