বুধবার ০৩ জুন ২০২০

১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

মংহাইথুই মারমা, রুমা (বান্দরবান)

মে ২১,২০২০, ০৯:০৪

মে ২১,২০২০, ০৯:০৪

রুমায় কাজুবাদাম চাষিদের মাথায় হাত

পাহাড়ের সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য কাজুবাদাম। বান্দরবানের রুমা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এটি চাষ হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর ফলটি চাষ করে পাহাড়িদের অনেকে লাভবানও হয়েছেন। তবে এ বছরে মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কাজুবাগামে চাষিদের ক্ষয়ক্ষতি সম্ভাবনা রয়েছে বলে এমন দুঃখের প্রকাশ করেছে।

অপরদিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়াই চাষ করায় কাক্সিক্ষত আয় হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা। বিষয়টিকে কৃষি বিভাগের উদ্যোগহীনতা হিসেবেই দেখছেন বাদাম চাষিরা। চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কোনো ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা না থাকায় এই কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা শতভাগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ চাষিদের।

কাঁচা বাদাম বিক্রি করে লাভের মুখ দেখলেও প্রক্রিয়াজাত করার ব্যবস্থা থাকলে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হতো। বাগান মালিকদের লাভের পরিমাণও বেড়ে যেত কয়েকগুণ বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

রুমা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুতিমল তংচংগ্যা জানান, কাজুবাদাম উচ্চ পুষ্টিমান এবং উচ্চমূল্যের একটি কৃষি পণ্য। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত কাজুবাদাম প্রতি কেজি ১০০-১৫০ টাকা এবং প্রক্রিয়াজাতকৃত কাজুবাদামের দাম মানভেদে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। কাজুবাদামের গুণগতমান ঠিক রাখতে হলে ফল মাটিতে ঝরে পরার দুই-তিন দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করতে হবে। তা না হলে বাদামের গুণগতমান পাওয়া যায় না।

তিনি আরো জানান, এই বছরের কৃষিমন্ত্রী একান্ত উদ্যোগে রুমা কৃষি বিভাগে প্রতি কৃষককে এক একর করে কাজুবাদাম প্রদর্শনী দেয়া হবে, সেখানে সার, বীজ ও চারা বিনামূল্যেই দেয়া হবে। এদিকে মহামারি করোনা ভাইরাস সারা দেশব্যাপী লকডাউন সেহেতু কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে কাজুবাদামের ওপর। যেহেতু আমেরিকা, ইউরোপে রপ্তানি করা হয় এবং সেসব দেশগুলো করোনায় আক্রান্ত তারা যদি না কিনে, তাহলে দাম কম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের মধ্যে পতেঙ্গায় কাজুবাদাম ফ্যাক্টরি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বছরে ১০ হাজার মেট্রিক টন চাহিদা আছে।

এদিকে কৃষি বিভাগে রোয়াংছড়ি উপজেলার কর্মরত অতিরিক্ত দায়িত্বে রুমা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা হাবিবুন নেচ্ছা জানান, রুমা উপজেলায় বিপুলভাবে কাজুবাদামের চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে রুমার বেথেলপাড়া, মুনলাই এবং বটতলী পাড়ার সবচেয়ে বেশি হয়। এ বছর শীলাবৃষ্টিসহ বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কিছুটা কম হলেও চাষিরা ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবন রয়েছে। অপরদিকে করোনা ভাইরাসে গ্রামের লোকজন লকডাউনে থাকা এ বছরের বিপুলভাবে ক্ষয়ক্ষতি সম্ভাবনায় রয়েছে চাষিদের।

তবে এ বছর খোসাসহ কাজুবাদাম বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ চার হাজার ২০০ থেকে পাঁচ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত, যা গতবার বিক্রি হয়েছিল তিন হাজার ২০০ থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে।

রুমা উপজেলার মুনলাইপাড়ার কারবারি লিয়ান আং বলেন, গত বছর ১৫০ মণ কাজুবাদাম ফলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেছি। শুধু লিয়ান একা নয়, তার পাড়ার আরও ৫৪টি পরিবার কাজুবাদাম চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়াই চাষ করার কারণে মূল্যবান এই কৃষিপণ্য থেকে কাক্সিক্ষত আয় হচ্ছে না তাদের।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছর কাজুবাদামের আশানুরূপ ফলন হয়নি। প্রতি কেজি কাজুবাদাম খোসাসহ বিক্রি হয়েছে ১০৫-১৩০ টাকা পর্যন্ত। বাদামের সাইজ ছোট-বড় থাকায় দামও কম-বেশি করে বিক্রি করেছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, বান্দরবানের রুমা উপজেলা থেকে এ বছর প্রায় ১০০ মেট্রিক টন বাদাম সংগ্রহ করেছি। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর রুমায় কাজুবাদামের ফলন কিছুটা কম হলেও চাষিরা দাম পেয়েছে বেশি। সংগ্রহ করা বাদামগুলো চট্টগ্রামের পটুয়াখালী ব্যবসায়ীদের কাছে স্বল্প মুনাফায় বিক্রি করেছি।

আমারসংবাদ/এমআর