বুধবার ০৩ জুন ২০২০

১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)

মে ১৯,২০২০, ০২:৪৯

মে ১৯,২০২০, ০২:৪৯

সিরাজদিখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলে ভরা বাগান

বাগান জুড়ে থোকা থোকা আঙ্গুর

তিনি একাধারে রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রতিনিধি। আম জনতার সঙ্গেই তার বেশির ভাগ সময় কাটে। প্রকৃতির প্রতি তার অকৃত্রিম প্রেম ভালোবাসা। ভালোবাসেন নানান ফল ও শাকসবজি। মাছের প্রতিও দুর্বলতা কম নয়-এমন মানুষটি হচ্ছেন আব্দুল মতিন হাওলদার।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেছেন ফল ও শাকসবজির বাগান। একই সঙ্গে আছে কয়েকটি পুকুরও। হাসের জল কেলির সঙ্গে ঘুরে বেড়ায় নানা প্রজাতির দেশী মাছ। বাগান জুড়ে থোকা থোকা আঙ্গুর।

দেশীয় আপেল পেয়ারার সুঘ্রানে ভরে গেছে বাগানময়। এই গরমে ভাতের সঙ্গে কাঁচা আমের ডালের কথা মনে পড়ে যায় বাগানে প্রবেশ করতেই। বিছে পোকায় সব পাতা খেয়ে সাবাড় করে দিয়েছে আমড়ার। জৈষ্ঠের কাঁঠাল আর দেশীয় আপেল পেয়ারা তো আছেই ওই বাগানে।

জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যমনিতেই অবস্থান ইছাপুরা গ্রাম। আর ওই গ্রামেই একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা ও ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন হাওলাদারের বাড়ি। সেখানকার প্রায় দেড়-একর জায়গা জুড়ে ফল ও শাকসবজির বাগান গড়ে তোলেন তিনি। ৫ টি বড় আকারের পুকুরও রয়েছে। এক কথায় পুরো বাড়িতেই সবুজের সমারোহ।

যে কারো মন ভালো করে দিবে এ বাড়িটি। ২০ প্রজাতির আমের সঙ্গে সেখানে আছে আমলকি, জাম্বুরা, আমরুছ, জাম, ডাব, বেল ও আতা। বাদ যায়নি রামপালের কলাও। দেশি-বিদেশি এমন অন্তত ১শ প্রজাতির ফলের গাছ আছে ওই বাগানে। নানান ফলের সঙ্গে বাগানে আছে শাকসবজিও। লাউ, কুমড়ো, ঢেড়শ, পুঁই শাক, লাল শাক, শশা ছাড়াও আর কত কি শাক সবজিতে ভরা এ বাগান।

বাড়ির আশপাশের বিশাল জায়গা খালি অবস্থায় পড়েছিল। তাতে বাড়ির মালিকের ইচ্ছে হল ফল ও শাক সবজি করলে কেমন হয়। যেমন ইচ্ছে তেমন কাজ। আব্দুল মতিন হাওলদার হাতে নিলেন বাগান গড়ার। প্রায় ১০ বছর আগের ওই ভাবনা থেকেই বাড়ির আশপাশে আজকের বিশাল এ বাগান পরিণত হয়েছে। তবে সবার অগ্রভাগে ছিল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. মোশারফ হোসেনের অনুপ্রেরনা।  

আব্দুল মতিন হাওলাদার বলেন, সৌখিনতা থেকেই বাগান গড়া। বৃক্ষের প্রতি আমার ভালোবাসা ছাত্র বয়স থেকেই। উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী মো.মোশারফ সাহেবের অনুপ্রেরণা ও চেষ্টার ফলে আজ আমার এতো বড় বাগান হয়েছে। আমার বাগান দেখে যে কারোর মন কেড়ে নিবে।

আমার বাড়িতে ১শ প্রজাতির ফলের গাছ রয়েছে। ৫ টি পুকুরে রয়েছে মাছ। আমার বাগানে ২০ জাতের সুস্বাদু আম গাছ আছে। আমার সব থেকে বেশী আনন্দ লাগছে প্রায় ৩ বছরের প্রচেষ্টার পর বাগানে আঙ্গুর ফল দেখা দিয়েছে। বাগানে এ বছর আঙ্গুল ফল ধরেছে প্রচুর। তাছাড়া সকল প্রকার শাক সবজি ও পুকুরে মাছ চাষে সফলতা পেয়েছি।

উপজেলার কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ৮-৯ বছর আগে খালি জায়গার বাগান কারার পরার্মশ দিয়েছিলাম। প্রতিটি গাছ সংগ্রহ করে আনা হয়েছে। বেশির ভাগ কলম কাটা ফল গাছ দিয়েছি। আজ বিশাল বড় ফলের বাগানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটা গাছে ফল হয়েছে প্রচুর। এ বছর আঙ্গুর ফল ধরেছে অনেক।

আমারসংবাদ/এমআর